জোকা থেকে আইআইএম-কলকাতা হয়ে ডায়মন্ড পার্ক পর্যন্ত কলকাতা মেট্রোর পার্পল লাইনের ১.৭ কিলোমিটার সম্প্রসারণের জন্য রেল মন্ত্রক ৫,৮৭১ বর্গমিটার বেসরকারি জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
এর পাশাপাশি, রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL) এলিভেটেড ভায়াডাক্ট এবং আইআইএম-কলকাতা স্টেশন নির্মাণের জন্য ৩৭৮ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করেছে, যা ভবিষ্যতে ডায়মন্ড পার্ক পর্যন্ত সম্প্রসারণের সুবিধা দেবে।
কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘোষণা করেছেন যে শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ এবং মেট্রো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কলকাতা মেট্রোর জন্য ৬০টি নতুন প্রজন্মের ট্রেন আনা হবে।
উপরন্তু, তিনি উল্লেখ করেছেন যে দিল্লি-বারাণসী এবং বারাণসী-শিলিগুড়ি সংযোগকারী প্রস্তাবিত উচ্চ-গতির বুলেট ট্রেন করিডোরগুলি ভ্রমণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে, যা মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে নয়াদিল্লির সাথে শিলিগুড়িকে সংযুক্ত করবে।
কলকাতা মেট্রো রেলওয়ে চিতপুর (কলকাতা স্টেশন) থেকে সল্টলেকের করুণাময়ী পর্যন্ত একটি নতুন ৮.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো করিডোরের প্রস্তাব করেছে। এই রুটের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং গ্রাউন্ড সার্ভে শুরু করা হয়েছে, যা ক্ষুদিরাম বসু রোড এবং বাগজোলা খাল হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
রাজ্য সচিবালয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে বিভিন্ন রেল প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সফরের প্রাক্কালে এই প্রস্তাবটি এসেছে।
অরেঞ্জ লাইন (Orange Line) মেট্রো করিডোরের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির অংশ হিসেবে, ভিআইপি রোডের (VIP Road) হলদিরাম ক্রসিংয়ে একটি নতুন ১৭৫ মিটার দীর্ঘ যান চলাচল ডাইভারশন রোডের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL) ১ জুন, ২০২৬ থেকে ইএম বাইপাসে (EM Bypass) ৪৫ দিনের ট্রাফিক ব্লকের জন্য পুলিশের অনুমতি পেয়েছে।
চিনার পার্কের কাছে তৈরি হওয়া এই নতুন ডাইভারশন রোডটি শেষ দুটি জটিল পোর্টাল পিয়ার (P816 এবং P817) নির্মাণের সুবিধার্থে ডিজাইন করা হয়েছে এবং জুন ২০২৬-এর মধ্যে এটি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইএম বাইপাসে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ফলে বেলেঘাটা মেট্রো স্টেশনের উভয় দিককে সংযুক্ত করতে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ফুট ওভারব্রিজ (FOB) নির্মাণ করা সম্ভব হবে, যা যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধা দেবে।
দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ১২.৫ কিলোমিটারের বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো করিডোর (Pink Line) পুনরুজ্জীবিত করতে একটি বড় অগ্রগতিতে, ২৫ মে, ২০২৬ তারিখে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL) এবং কলকাতা পৌর নিগম (KMC) কর্মকর্তাদের মধ্যে ইউটিলিটি সমস্যা নিরসনে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এই ঐতিহাসিক বৈঠকে বিটি রোডের (BT Road) ভূগর্ভস্থ পাঁচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জল পরিবাহী পাইপলাইন স্থানান্তরের ওপর জোর দেওয়া হয়, যেগুলি প্রায় ১৬ বছর ধরে এই মেট্রো নির্মাণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শহরের জল সরবরাহ সচল রেখে কীভাবে পাইপলাইনগুলি সরানো যায় সে বিষয়ে উভয় সংস্থাই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পেশ করেছে।
অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্ত করতে এবং পিলারের কাজ শুরু করতে শীঘ্রই আরও কিছু প্রযুক্তিগত পর্যালোচনা করা হবে।
ব্যস্ত চিঙড়িঘাটা মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা গার্ডার লঞ্চিংয়ের কাজ ২৫ মে, ২০২৬ সকাল ৫টায় নির্ধারিত সময়ের আগেই সফলভাবে সম্পন্ন করেছে মেট্রো রেলওয়ে। এর ফলে ইএম বাইপাসে স্বাভাবিক যান চলাচল পরিকল্পিত সময়ের আগেই পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।
প্রশাসনিক ও পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা ৩৬৬ মিটার ভায়াডাক্ট অংশের নির্মাণ কাজ মেট্রো কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকারের নিবিড় সমন্বয়ে পরপর দুটি উইকেন্ডে সম্পন্ন করা হয়। এটি নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর করিডোরের (Orange Line) একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভায়াডাক্টের সংযোগ স্থাপন করলেও, করিডোরের স্টেশন ও অন্যান্য অংশের কাজ এখনও চলছে।
বিধাননগর পুলিশ আরভিএনএল (RVNL)-কে কৈখালির কাছে ভিআইপি রোডে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলিভেটেড মেট্রো রেলের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এই কাজের অধীনে হজ হাউসের কাছে দীর্ঘদিনের বকেয়া ১২০ মিটার ভায়াদুক্ত সংযোগের জন্য ৫০০ টনের একটি লঞ্চার ওঠানো হবে।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়াতে পরবর্তী চার মাস ধরে প্রতিদিন রাতে ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত যান চলাচল ঘুরিয়ে দিয়ে এই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।
অরেঞ্জ লাইনের (Orange Line) দীর্ঘদিনের বকেয়া চিঙড়িঘাটা অংশের কাজ ১৫ মে, ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় শুরু হয়েছে। চিঙড়িঘাটা মোড়ে এলিভেটেড ভায়াদুক্তের ৩৬৬ মিটারের সংযোগ স্থাপনের জন্য কলকাতা পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অনুমতি দিয়েছে, যা নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর করিডোরের কাজ দ্রুত শেষ করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ।
⚖️ গণ-জবাবদিহিতা ও স্থায়ী রেকর্ড: এই পৃষ্ঠাটি দীর্ঘমেয়াদী ঐতিহাসিক রেকর্ড হিসেবে কাজ করে। কোনো প্রতিশ্রুতি "পূরণ করা হয়েছে" হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরেও, আমরা নীতিগত পরিবর্তন বা কার্যক্ষেত্রে প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা ট্র্যাক করতে এখানে নতুন আপডেট পোস্ট করা অব্যাহত রাখব। ভবিষ্যতে বাস্তবায়নে কোনো ঘাটতি দেখা দিলে তা এখানে নথিভুক্ত করা হবে।